Showing posts with label car. Show all posts
Showing posts with label car. Show all posts

Saturday, 28 March 2020

বাড়ি



বহু কষ্টে বিদ্যাটি আয়ত্ত করছিলুম জানেন! এমনি এমনি নয়, একটা আস্ত আখাম্বা চারতলা প্রাসাদোপম বাড়ি বানানোকে কেউ এমনি এমনি কাজ বললে তার কানে গুজিয়ার প্যাঁচ মেরে গায়ের  উপর  আঠেরো পিস বুভুক্ষু ছারপোকা ছেড়ে দেব বলে দিলুম!

সে কি যে সে বাড়ি! সে বাড়ির একতলায় আছে ‘প্রাসাদোপম’ ( শব্দটা বলে ফেলে মহা ভুল করেছি! সব কিছুতেই এই বিশেষণটা না লাগালে, তিনি গোঁসা হচ্ছেন।) “বাথথুম্‌”।

প্রচুর আপত্তি করেছিলুম জানেন। এটা মেনে নেওয়া যায়? বাড়িতে ঢুকেই “বাথথুম”! মানে, কল্পনা করুন, আপনি বন্ধুর বাড়ি গেলেন, বেল বাজালেন, হাসিমুখে বন্ধু এসে দরজা খুলল, আপনি ভিতরে ঢুকেই হয় বাথটাব নয় কমোডে গুঁতো খেলেন? এরকম বাসায় ঢুকেই গোসলখানায় পদার্পণ করতে লোকে গোঁসা হবে না?!

তা আর্কিটেক্ট পাত্তাই দিল না। ওটাই নাকি তার ডিজাইন।

সুতরাং হল বাথথুম। সত্যিকারের জল ভরা বাথটাব দিয়ে। (ফোঁস! বাক্সটায় চুলের ক্লিপগুলো রাখতুম, সেগুলো আর বাক্সের ঢাকনা কোথায় গেল পরে খুঁজতে হবে আবার!)

তার উপরতলায় খাবার ঘর। কুট্টি কুট্টি কাঠের টেবিল চেয়ার, গত জন্মদিনে কিনে দিয়েছিলুম। তার উপরে একটা ধুমসো কেকের শেপের মোমবাতি – জ্বালা হবে, না খাওয়া হবে তা নিয়ে অনেকক্ষণ অবধি দ্বিমত চলছিল, শেষমেশ ঠিক হয়েছে দিনের বেলা খাওয়া হবে আর সন্ধেবেলা জ্বালা হবে। কে বলেছে  you cannot eat your cake and have too!

খাবার ঘরে একটা পিঙ্ক বাহারি আলমারি রাখা হয়েছে। ওটা দরকার মত ফ্রিজ, ওভেন বা খাবার তুলে রাখার র‍্যাক ভেবে নিতে হবে। এসব সামান্য অ্যাডযাস্টমেন্ট যদি না পারেন তো খেলতে আসেন কেন মশাই! দেখুন, দেখে শিখুন। এইমাত্র আমি আলমারি (ফ্রিজ) থেকে পাস্তা বার করে, আলমারিতে (ওভেনে) গরম করে আলমারিতে (র‍্যাকে) তুলে রাখলুম। অবশ্য র‍্যাক থেকে নামানোর সময় ওটা পাস্তা থেকে খিচুড়িও হয়ে যেতে পারে। সে যাক!

উপরে চলুন। তিনতলা হচ্ছে শোবার ঘর। খাট, বিছানা, দুটো অতি নয়নমনোহর বাহারী ‘পাপ্পল কালারের’ সোফা্‌, একটা ততোধিক বাহারি গ্র্যান্ডফাদার ক্লক, একটা হেলে পড়া নারকেল গাছ।

মকানো নিষিদ্ধ। ওটাই আর্কিটেক্টের ডিজাইন।

কে বলেছে এমন হয় না? এককালে ‘ওরাকল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসেস’এ কাজ করতুম। গোরেগাঁওতে তাদের অফিস বিল্ডিং-এর মাঝামাঝি একটা ফ্লোর ওপেন,গুচ্ছের  এইরকম চমৎকার পাম গাছ টাছ আছে। এখনো আছে, ওদিক দিয়ে গেলে দেখতে পাই। তা, অফিস লবিতে যদি হতে পারে, বাড়ির শোবার ঘরেই বা না হবে কেন বাপু!

তবে, ঘুমোতে ঘুমোতে মাথায় যদি নারকেল খসে পড়ে, এই বলে আমি একটু ক্যাঁওম্যাও করেছিলুম। তিনি ভারি নিশ্চিন্ত গলায় বললেন, এটার নারকেল খসে পড়ে না, কেটে পাড়তে হয়।

হবেও বা। আর কথা বাড়াইনি, যা মেয়ে, বেশি বললে হয়তো গাছের ডগায় ফেভিকল মাখিয়ে বসে থাকবে। তারপর সে প্লাস্টিকের নারকেল গাছ আমার ড্রেসিং টেবিলে জন্মের শোধ আটকে যাবে...থাক তার চেয়ে!

এই অবধি খাসা চলছিল বুঝলেন। তিনি হুকুম করছেন হাত পা নেড়ে আর আমি স্যাটাস্যাট মালপত্তর ফিট করছি। আর একটাই তলা বাকি ছিল , চারতলা, টপ ফ্লোর।

“এটা।“

হাতে নিয়ে মুহ্যমান হয়ে থাকি একটু। প্লাস্টিকের গাছে ল্যাজঝোলা পাখি, আসলে ফ্রুট ফর্কের সেট। ভারি শখ করে হাতিবাগান থেকে কিনেছিলুম। হাতে গোনা কয়েকদিন খাবার টেবিলে থাকার পর আশ্চর্যজনক ভাবে গাছটা উধাও হয়ে যাওয়ার পর, খুব স্বাভাবিকভাবেই পাখিগুলো কন্যার খেলনার ঝুড়িতে ঠাঁই পেয়েছিল। এদ্দিন পরে আমার হাতে আবার সেই গাছটা!

“আরে, রাখো ওটা? উঁহু উঁহু ওদিকে না, এদিকের দেওয়ালে , এই এই এইরকম করে।“
প্রায় আমার ভুঁড়ি বেয়ে উঠে সেটা ঠিক করে সেট করা হল।

আমি ভাবছি এবার পাখি বসবে বুঝে ডালে ডালে। ওমা, একটা ধুমসো লাল গাড়ি হাতে ধরিয়ে দিল।

“রাখো?”

“ইকী! গাড়ি এত উপরে থাকে না! ইকী! না না…”

কে শোনে কার কথা। ওইটেই নাকি গ্যারেজ। ওখানেই গাড়ি রাখতে হবে।

“নামবে কী করে? রাস্তায় চলতে হবে তো!”

“আহ মা! ব্যাট্মোবাইল দ্যাখোনি? এই তো এইরকম ডানা খুলবে (গাড়িটা দরজা খোলা যায় দেখে আমিই কিনেছিলুম বটে) আর হুশ্‌ করে উড়ে যাবে!”

যাক তবে। উড়েই যাক। আমার এমনিতেই হুঁশ উড়ে যাচ্ছে। কথা না বাড়িয়ে গাড়ি রেখে দিই।                                                                                                                       
তারপর দুজনের একসঙ্গে খেয়াল হয়।

ও মা, সিঁড়ি?”

“এই, উঠবে কী করে?”

এগিয়ে পিছিয়ে, এদিক ওদিক থেকে মন দিয়ে অবলোকন করি। না, সিঁড়ি বলে চালানোর মত কিছু চোখে পড়ে না।

তারপর মাথায় বুদ্ধি আসে। দুটো খালি কৌটো, একফালি লম্বা উলের দড়ি, দুটো রাবার ব্যান্ড।

নে, তুই আমায় ব্যাটমোবাইল দেখাচ্ছিস, আমি তোকে অরণ্যদেবের গাছবাড়ির ঝুড়ি লিফট করে দেখালুম। এবার লিফটে চেপে যত খুশি ওঠানামা করা পুতুলদের।

এইবার, আমাদের বাড়ি কিন্তু রেডি!! হেব্বি হয়েছে, যাই বলো! বাড়ির বাসিন্দা দুই ঝুঁটিবাঁধা কুট্টি কুট্টি পুতুলও এসে গেছে! তবে তারা এবার জামা টামা খুলে বাথটাবে ‘চাং’ করবে, তোমরা ধেড়েরা এখন এখান থেকে যাও দিকি!




Sunday, 21 October 2018

টুম্পা'স ওয়ান্ডার কোম্পানি


ফ্লাফি, কুকি, ট্রিকি, ঋদ্ধি আর সিদ্ধি। পাঁচ বন্ধু। খুব ভাব ওদের, সদা সর্বদা একসঙ্গে থাকে। সেদিন ওরা মাঠে গেছিল খেলতে। দুম দাড়াক্কা করে খুব খেলেছে।  তারপর না সারা গায়ে 'ধুলমিট্টি' মেখেজুখে একশা। সে কি রাম নোংরা, বললে পেত্যয় যাবেন না। কিছুতেই উঠছে না গা থেকে। 



কী করা যায়! অগতির তো একটাই গতি। মা----!



মাকে, সুতরাং, 'টুম্পা' ওয়ান্ডার কার ওয়াশিং কোম্পানি' খুলতে হল। সেকি, বোঝেননি এখনো? এরা পুতুল তো নয়ই, এমনকি সফট টয়ও নয়। এরা আমাদের বাড়ির অগুনতি চারচাকা আর দুচাকার বাছাই পাঁচ। একটা ট্রেন ইঞ্জিন, একটা মাটি-খাওয়া গাড়ি, একটা মশলা-গাড়ি, মানে সিমেন্ট  মিক্সার আর কী, একটা ক্রেনগাড়ি আর একটা ঘোড়ার গাড়ি। কোনটা কে জিজ্ঞেস করে লজ্জা দেবেন না। খালি কুকি হল ঘোড়ার গাড়ি এটা মনে আছে, কারণ তার আফটার ওয়াশ সার্ভিস অন্যরকম।



নতুন কোম্পানি সেট আপ করা কি মুখের কথা! ওঠো রে, পাশে চায়ের কাপটি নিয়ে থেবড়ে বোসো রে, প্ল্যান করো রে, যন্তরপাতি সাজাও রে, তাপ্পর খদ্দেরদের লাইন করে দাঁড় করাও রে, লাইনের অর্ডার নিয়ে বিনুনি বাঁধা ক্লায়েন্টের সঙ্গে ঝগড়া করো রে, তাপ্পর ঝগড়ায় হেরে গিয়ে গোঁজ হও রে, তাপ্পর গালে মধুর মত মিষ্টি হামি খেয়ে এথিক্স টেথিক্স ভুলে ক্লায়েন্টকে চটকু করো রে, তাপ্পর সেই চটকুর ধাক্কায় ছিটকে যাওয়া ফ্লাফি, কুকি, ট্রিকি, ঋদ্ধি আর সিদ্ধিকে কুড়িয়ে আনো রে।



এইরকম মহাসমারোহে শুরু হয়ে গেল আমাদের কোম্পানির যাত্রা। খুব সিস্টেমেটিক পদ্ধতি। প্রথমে একটা রুমাল, না সরি, প্ল্যাটফর্মের উপর গাড়ি দাঁড়াচ্ছে, জেট দিয়ে, যেটা কিনা আমার একটা বাতিল কলমের মত দেখতে, স্পীডে তার গা ধুইয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারপর আরেকটা প্ল্যাটফর্মে, সেটা একটা পাজলের পিস কাঠের চৌকো, নিয়ে গিয়ে গায়ে ভালোওওওও করে ইরেজার ঘষা, আরে দ্যুৎ, সাবান মাখানো হচ্ছে। আবার আগের প্ল্যাটফর্মে এনে ধুইয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ ধৌত গাড়ি যাচ্ছে হলুদ নরম ঝাড়নে গা মুছে নিতে, ব্যাপারটা হচ্ছে মায়ের কোলে শুয়ে। তারপর হাতে করে তুলে (ওটা রোবোটিক লিফটার মেশিন ধরে নিতে হবে) ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একটা হাতে ধরা পাখা দিয়ে শুকনো করা হচ্ছে একদম। তারও পর মোম পালিশ হচ্ছে, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একটা ফেল্টের টুকরো দিয়ে। তারপর? গাড়িরা একটা গোলাপী কাপে স্ট্র থেকে পেট্রোল খাচ্ছে। 



শুনতে সোজা মনে হলেও মোটেই সোজা নয়। আর ক্লায়েন্টটিও মহা বায়নাকুটে। জেট চালানোর সময় মুখ দিয়ে ঠিক একরকম 'ঝোপ্ ঝোপ্ ঝপ্পাসসসস্' আওয়াজ না করলে কাঁই কাঁই করছে, পাখা সমান স্পীডে না চালালে গোঁসা হচ্ছে, গাড়ির নাকে এক্সট্রা মোমপালিশ না ঘষলে হাত পা ছুঁড়ছে। পেট্রোল  খাওয়ানো নিয়ে তো হাতাহাতিই হয়ে গেল, আমি গাড়ির পেছনবাগে স্ট্র গুঁজেছিলুম, তিতির মুখ দিয়ে খাওয়াবেই খাওয়াবে। শেষমেশ একটা রফা করে পেটে ইনপুট চ্যানেল করা হল, সেই 'কাস্তে দিয়া পেট চিরিয়া ঘাস ভরিয়া দেয়' স্টাইলে। 



কুকি অবশ্য পেট্রোল খায় না, তাকে পিঙ্ক প্লাস্টিকের ফুলকাটা প্লেটে 'দানাপানি' দিতে হল। সেই সঙ্গে আবার মোম পালিশের সাথে ফ্রী 'দলাইমলাই' যদিও সেটা ঘোড়ার প্রাপ্য কিন্তু বিচ্ছু ক্লায়েন্ট নিজেই কোলে এসে বসে নিয়ে নিল। 



এর মধ্যে 'রবাহূত', মানে দাদুমণি, এসে হাজির। তাকে গাড়িদের পরিচয় দেওয়া হল। তার পর পড়া ধরা হল, 'বলো কোনটা কে' কিন্তু রহস্যের বিষয় হল, যদিও তিতির কিচ্ছুউউউউউ জানে না, দাদুমণির হাতে পড়া বলার জন্য দেওয়া গাড়ির ফাঁকে ফাঁকে একটা প্যালেস সেট এর অন্য কী যেন খালি চলে যাচ্ছিল। ফলে পড়া বলা হচ্ছিল এইরকম -



"ফ্লাফি"

"এটা তো কমোড!"

"--- ট্রিকি"

"কমোড"

"কুকি!"

"কমোড"

"ভুলে গেছি...(মায়ের ঠোঁট নাড়া) ... ঋদ্ধি"

"কমোড

"সিদ্ধি ( বাই প্রোসেস অফ এলিমিনেশন)"

"আবার কমোড!"

এইখানে আর হাসি সামলাতে না পেরে পুরো হিজিবিজবিজের মত মাটিতে হাত পা ছুঁড়ে ক্লায়েন্টের গড়াগড়ি। হাসি চাপতে চাপতে দাদুমণির প্রস্থান।



তারপর ঝকঝকে সাজা পাঁচ গাড়ি দল বেঁধে চলল পিকনিক করতে। এত খাটনির দাম পাওয়া গেছে মোটে পাঁচখানা লুডোর ঘুঁটি, তাও আবার তার একটাও লাল নয়৷ কোম্পানি তুলে দেব ভাবছিলুম বসে বসে, জনান্তিকে খবর পাওয়া গেল পিকনিকের মাঠে নাকি বেজায় কাদা হয়েছে। রিপিট অর্ডার এল বলে



তাই এখনো দোকান খুলে বসে আছি। চাই নাকি কারো? ফাস্-কেলাস সার্ভিস করে দেওয়া হবে, চাই কি বাম্পার লাকি ড্রয়ের মাধ্যমে বেছে নেওয়া কোনো ক্রেতাকে প্রাইজ হিসেবে ওই প্লাস্টিকের কমোডটাও গিফট করা যেতে পারে।