Showing posts with label Indoor play. Show all posts
Showing posts with label Indoor play. Show all posts

Saturday, 28 March 2020

বাড়ি



বহু কষ্টে বিদ্যাটি আয়ত্ত করছিলুম জানেন! এমনি এমনি নয়, একটা আস্ত আখাম্বা চারতলা প্রাসাদোপম বাড়ি বানানোকে কেউ এমনি এমনি কাজ বললে তার কানে গুজিয়ার প্যাঁচ মেরে গায়ের  উপর  আঠেরো পিস বুভুক্ষু ছারপোকা ছেড়ে দেব বলে দিলুম!

সে কি যে সে বাড়ি! সে বাড়ির একতলায় আছে ‘প্রাসাদোপম’ ( শব্দটা বলে ফেলে মহা ভুল করেছি! সব কিছুতেই এই বিশেষণটা না লাগালে, তিনি গোঁসা হচ্ছেন।) “বাথথুম্‌”।

প্রচুর আপত্তি করেছিলুম জানেন। এটা মেনে নেওয়া যায়? বাড়িতে ঢুকেই “বাথথুম”! মানে, কল্পনা করুন, আপনি বন্ধুর বাড়ি গেলেন, বেল বাজালেন, হাসিমুখে বন্ধু এসে দরজা খুলল, আপনি ভিতরে ঢুকেই হয় বাথটাব নয় কমোডে গুঁতো খেলেন? এরকম বাসায় ঢুকেই গোসলখানায় পদার্পণ করতে লোকে গোঁসা হবে না?!

তা আর্কিটেক্ট পাত্তাই দিল না। ওটাই নাকি তার ডিজাইন।

সুতরাং হল বাথথুম। সত্যিকারের জল ভরা বাথটাব দিয়ে। (ফোঁস! বাক্সটায় চুলের ক্লিপগুলো রাখতুম, সেগুলো আর বাক্সের ঢাকনা কোথায় গেল পরে খুঁজতে হবে আবার!)

তার উপরতলায় খাবার ঘর। কুট্টি কুট্টি কাঠের টেবিল চেয়ার, গত জন্মদিনে কিনে দিয়েছিলুম। তার উপরে একটা ধুমসো কেকের শেপের মোমবাতি – জ্বালা হবে, না খাওয়া হবে তা নিয়ে অনেকক্ষণ অবধি দ্বিমত চলছিল, শেষমেশ ঠিক হয়েছে দিনের বেলা খাওয়া হবে আর সন্ধেবেলা জ্বালা হবে। কে বলেছে  you cannot eat your cake and have too!

খাবার ঘরে একটা পিঙ্ক বাহারি আলমারি রাখা হয়েছে। ওটা দরকার মত ফ্রিজ, ওভেন বা খাবার তুলে রাখার র‍্যাক ভেবে নিতে হবে। এসব সামান্য অ্যাডযাস্টমেন্ট যদি না পারেন তো খেলতে আসেন কেন মশাই! দেখুন, দেখে শিখুন। এইমাত্র আমি আলমারি (ফ্রিজ) থেকে পাস্তা বার করে, আলমারিতে (ওভেনে) গরম করে আলমারিতে (র‍্যাকে) তুলে রাখলুম। অবশ্য র‍্যাক থেকে নামানোর সময় ওটা পাস্তা থেকে খিচুড়িও হয়ে যেতে পারে। সে যাক!

উপরে চলুন। তিনতলা হচ্ছে শোবার ঘর। খাট, বিছানা, দুটো অতি নয়নমনোহর বাহারী ‘পাপ্পল কালারের’ সোফা্‌, একটা ততোধিক বাহারি গ্র্যান্ডফাদার ক্লক, একটা হেলে পড়া নারকেল গাছ।

মকানো নিষিদ্ধ। ওটাই আর্কিটেক্টের ডিজাইন।

কে বলেছে এমন হয় না? এককালে ‘ওরাকল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিসেস’এ কাজ করতুম। গোরেগাঁওতে তাদের অফিস বিল্ডিং-এর মাঝামাঝি একটা ফ্লোর ওপেন,গুচ্ছের  এইরকম চমৎকার পাম গাছ টাছ আছে। এখনো আছে, ওদিক দিয়ে গেলে দেখতে পাই। তা, অফিস লবিতে যদি হতে পারে, বাড়ির শোবার ঘরেই বা না হবে কেন বাপু!

তবে, ঘুমোতে ঘুমোতে মাথায় যদি নারকেল খসে পড়ে, এই বলে আমি একটু ক্যাঁওম্যাও করেছিলুম। তিনি ভারি নিশ্চিন্ত গলায় বললেন, এটার নারকেল খসে পড়ে না, কেটে পাড়তে হয়।

হবেও বা। আর কথা বাড়াইনি, যা মেয়ে, বেশি বললে হয়তো গাছের ডগায় ফেভিকল মাখিয়ে বসে থাকবে। তারপর সে প্লাস্টিকের নারকেল গাছ আমার ড্রেসিং টেবিলে জন্মের শোধ আটকে যাবে...থাক তার চেয়ে!

এই অবধি খাসা চলছিল বুঝলেন। তিনি হুকুম করছেন হাত পা নেড়ে আর আমি স্যাটাস্যাট মালপত্তর ফিট করছি। আর একটাই তলা বাকি ছিল , চারতলা, টপ ফ্লোর।

“এটা।“

হাতে নিয়ে মুহ্যমান হয়ে থাকি একটু। প্লাস্টিকের গাছে ল্যাজঝোলা পাখি, আসলে ফ্রুট ফর্কের সেট। ভারি শখ করে হাতিবাগান থেকে কিনেছিলুম। হাতে গোনা কয়েকদিন খাবার টেবিলে থাকার পর আশ্চর্যজনক ভাবে গাছটা উধাও হয়ে যাওয়ার পর, খুব স্বাভাবিকভাবেই পাখিগুলো কন্যার খেলনার ঝুড়িতে ঠাঁই পেয়েছিল। এদ্দিন পরে আমার হাতে আবার সেই গাছটা!

“আরে, রাখো ওটা? উঁহু উঁহু ওদিকে না, এদিকের দেওয়ালে , এই এই এইরকম করে।“
প্রায় আমার ভুঁড়ি বেয়ে উঠে সেটা ঠিক করে সেট করা হল।

আমি ভাবছি এবার পাখি বসবে বুঝে ডালে ডালে। ওমা, একটা ধুমসো লাল গাড়ি হাতে ধরিয়ে দিল।

“রাখো?”

“ইকী! গাড়ি এত উপরে থাকে না! ইকী! না না…”

কে শোনে কার কথা। ওইটেই নাকি গ্যারেজ। ওখানেই গাড়ি রাখতে হবে।

“নামবে কী করে? রাস্তায় চলতে হবে তো!”

“আহ মা! ব্যাট্মোবাইল দ্যাখোনি? এই তো এইরকম ডানা খুলবে (গাড়িটা দরজা খোলা যায় দেখে আমিই কিনেছিলুম বটে) আর হুশ্‌ করে উড়ে যাবে!”

যাক তবে। উড়েই যাক। আমার এমনিতেই হুঁশ উড়ে যাচ্ছে। কথা না বাড়িয়ে গাড়ি রেখে দিই।                                                                                                                       
তারপর দুজনের একসঙ্গে খেয়াল হয়।

ও মা, সিঁড়ি?”

“এই, উঠবে কী করে?”

এগিয়ে পিছিয়ে, এদিক ওদিক থেকে মন দিয়ে অবলোকন করি। না, সিঁড়ি বলে চালানোর মত কিছু চোখে পড়ে না।

তারপর মাথায় বুদ্ধি আসে। দুটো খালি কৌটো, একফালি লম্বা উলের দড়ি, দুটো রাবার ব্যান্ড।

নে, তুই আমায় ব্যাটমোবাইল দেখাচ্ছিস, আমি তোকে অরণ্যদেবের গাছবাড়ির ঝুড়ি লিফট করে দেখালুম। এবার লিফটে চেপে যত খুশি ওঠানামা করা পুতুলদের।

এইবার, আমাদের বাড়ি কিন্তু রেডি!! হেব্বি হয়েছে, যাই বলো! বাড়ির বাসিন্দা দুই ঝুঁটিবাঁধা কুট্টি কুট্টি পুতুলও এসে গেছে! তবে তারা এবার জামা টামা খুলে বাথটাবে ‘চাং’ করবে, তোমরা ধেড়েরা এখন এখান থেকে যাও দিকি!




Sunday, 17 November 2019

এক নিরীহ রোব্বারের বিকেল


 

কাউকে কিচ্ছু করিনি মশাই! মনের আনন্দে একটা নিরীহ নিরুপদ্রব রোব্বারের বিকেল কাটাচ্ছিলুম।  ভাতঘুম দিয়ে উঠে, রান্নাঘর হাঁটকে দুরকম আচার দু বাটিতে খাবলা করে এনে, কোলে তাকিয়ে নিয়ে বসে পালা করে সে দেবভোগ্য জিনিস চাখছিলুম আর একটা হেব্বি ভয়াল ভয়ংকর বই পড়ছিলুম। পাশের বেডরুম থেকে ফায়ার অ্যালার্মের চেয়েও বিকট জোরে হাঁক এলো।

"মাআয়ায়ায়ায়ায়ায়া! পাঁঁখাটা খুঁলে গেল!!!"

বিষম খেয়ে, আচারের চামচ ছুঁড়ে ফেলে, বালিশ উলটে দে দৌড়। মনে অবশ্য কূট প্রশ্ন জেগেছিল, যে এরকম নিঃশব্দে পাখা কী করে পড়ে যায়, তবে কি পাখার সত্যিকারের পাখা গজিয়ে উড়ে গেল?

হেসে লাভ নেই। এবাড়ির যা বীর বাতাস, প্যাকেট ভর্তি ওষুধ বা রান্নাঘরের কৌটো অতীতে বাতায়নপথে হাওয়ায় উড়ে গেছে। পাখার পক্ষী হওয়াই বা অসম্ভব কিসের!

তা, গিয়ে দেখি, সত্যিই খুলে পড়ে গেছে বটে। পড়ে গিয়ে শুধু যে তার একটা ব্লেড তেড়েবেঁকে গেছে তাই নয়, তার নিচে থাকা সাধের তিনকোনা টেবিলটাও দু টুকরো হয়ে গেছে!

বহু কষ্টে, বহু মাথা খাটিয়ে সেসব সারিয়ে সুরিয়ে সবে আচারের কাছে ফিরতে যাব, পচ্ করে জলে পা পড়ল।

কাঁহাসে জল আয়া রে বাবুয়া?

তদন্ত সমাপনান্তে বোঝা গেল বাথটব লিক করছে। সবে এই সকালেই ফিক্স করা হয়েছে, এর মধ্যেই তার দেহ রাখার দশা দেখে মেজাজ গেল চড়াং করে গরম হয়ে। যন্তরপাতি নিয়ে আবারও লেগে পড়লুম। এ ব্যাপারে আমার কন্যা আমার যোগ্য সহযোগী, তাকে টেপ চাইলে পেনসিল দেয়, দড়ি চাইলে আঠার শিশি। ঘাড় ব্যথা করে, সেসব পুলটিস মেরে, লীকপ্রুফ করে তবে উঠেছি, তিনি গলায় সওয়া চামচ মধু ঢেলে বললেন, "কমোডটাও হেলে গেছে মনে হচ্ছে, মাঁায়ায়া!"

এইবার ভারি রাগ হল। এটা বাড়ি, না দক্ষযজ্ঞ নৃত্যাভ্যাসের পাঠশালা? অ্যাঁ? এটা মেয়ে, না আখখুটে আবদাল্লা? বলি, সব ঘরদোর পরিপাটি  করে রেখে, ভালো করে দেখে তবে ঘুমোতে গেছি, আর এর মধ্যেই কিনা এত কিছু বিগড়ে রেখেছে!

কপাল! কপাল! মনে মনে চোখ বন্ধ করে "দীনবন্ধু কৃপাসিন্ধু কৃপাবিন্দু বিতরো" গাইতে গাইতে কমোডবাবাজীকে সিধে করলুম, তারপর চোখে পড়ল দেওয়াল ঘড়িটা চলছে না, তার কাঁটা ঘুরিয়ে দিলুম, গ্যাস সিলিন্ডার লাগালুম, সিঁড়ির ধাপে গাছ বসালুম। তারপর মনে হল, তখন থেকে মনে হচ্ছে আলমারিটা ওই দেওয়ালে মানাচ্ছে না, এতই যখন করলুম ওটাই বা আর বাদ যায় কেন!

এত কাজ মানুষে করে, বলুন তো? তাও রোব্বার বিকেলে?

আবার মিনমিন করছেন কেন?

আক্কেল গুড়ুম হয়ে গেছে? আমার কর্মকুশলতায় তো?

অ্যাঁ, না?  ওই পাখা পড়া...বিপজ্জনক?

দূর মশাই! ওটা কোনো বিপদ হল! ওর চেয়ে ঢের ঢের বেশি বিপদ হতে যাচ্ছিল আজ, তা জানেন?

"ম্যাঁ, এইখান থেকে নিয়ে নিচ্ছি বুঝলে, কিছু টের পাওয়া যাবে না।"

এই মোক্ষম সময়ে মা যদি তার লেখার অতল থেকে কান বাড়িয়ে কথাটা শুনে না ফেলত, যদি তার মগ্নচৈতন্যে প্লটের পিন্ডি চটকে এর অর্থ মরমে না পশিত, যদি সে হাঁ হাঁ করে ঝাঁপিয়ে পড়ে কন্যার হাতের উদ্যত কাঁচি কেড়ে না নিত - তো ঘরের বাহারি ফুলেল পর্দার কোমরের কাছে জন্মের শোধ দু ইঞ্চি বাই দু ইঞ্চি সাইজের দুটো গর্ত হয়ে যেত। হুঁঃ!

অবশ্য, তাতে ডলহাউসের জানলার পর্দা ঘরের পর্দার সঙ্গে ম্যাচিং ম্যাচিং হত।

নিন, দেখুন দিকি, কেমন দাঁড়াল মা মেয়ের হাতের কাজটা?


Monday, 21 October 2019

ভাতঘুম


ভদ্রমহিলা মনের আনন্দে ঘুমোচ্ছিলেন।



না ঘুমোনোর কোনো কারণ নেইও। ভোট উপলক্ষ্যে একটা মুফতে ছুটি পাওয়া গেছে, বাজার যেতে হয়নি, বারোটা নাগাদ হেলেদুলে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে চমৎকৃত হয়ে দেখেছেন তাঁর জন্যই সবাই অপেক্ষায়, মানে একদম ফাঁকা আর কী, তারপর আঙুলে ‘পোলিওর দাগ’ নিয়ে চাট্টি লেবু-শসা কিনে ফিরে এসেছেন রেকর্ড সময়ে, চান করে চিংড়ির মাথা দিয়ে চচ্চড়ি, মটর ডাল, ট্যাংরার ঝাল ইত্যাদি সহযোগে ভাত খেয়েদেয়ে বালিশ আঁকড়ে ভাতঘুম দিচ্ছেন, মনে আনন্দ থাকবে না তো কি অমর আকবর অ্যান্টনি থাকবে?



ঘুমটা একটা মোলায়েম, মাজা, মাখন মাখন ব্যাপার হয়ে এসেছে, স্বপ্ন দেখছেন এক বিয়েবাড়ি গেছেন, তারা বিরিয়ানির নেমন্তন্ন করেছে, কিন্তু খেতে আর দিচ্ছে না বলে আমন্ত্রিতরা ঘোঁট পাকাচ্ছে, অথচ ভদ্রমহিলা নাকে টের পাচ্ছেন রান্না হয়ে গেছে, আমন্ত্রণকারীরা কেউ সেখানে নেই যে জিজ্ঞাসা করবেন, তাই সবাই মিলে সেই লুক্কায়িত বিরিয়ানির খোঁজে যাওয়া হবে বলে টর্চ দড়ি ইত্যাদি জড়ো করা হচ্ছে, এমন সময়ে,



“মা?!!”



চোখ খুলতে না খুলতে কোমরে খোঁচা।



“অ মা!! করি?”



ভদ্রমহিলা তার অব্যবহিত পূর্বে মন দিয়ে নিমন্ত্রণবাড়ির ম্যাপ দেখছিলেন। ভারি সন্দিগ্ধ গলায় বললেন, “করবি? কী করবি? কেনই বা করবি?”



তাঁর ক্ষীণ আশা ছিল মেয়ে হয়তো বলবে ‘অঙ্কের ওয়ার্কশীটটা’, বা ‘গান প্র্যাকটিস’। সে আশায়  জলাঞ্জলি দিয়ে তিনি বললেন, “ডেকোরেশন?”



মা ততক্ষণে আবার আধোঘুমে বিরিয়ানির সন্ধানে উতলা হয়ে পড়েছেন, তিনি বললেন, “বিয়েবাড়িতে আবার কী ডেকোরেশন করবি, করাই তো আছে।“



কন্যা তুমুল চেঁচিয়ে জানায় সে বিয়েবাড়িতে কিছু করছে না। সে এই বাড়িতে করছে, এই ঘরে করছে, এবং মায়ের অফিসের ব্যাগে করছে।



ঘুমঘোরেও মায়ের কানে ‘অফিসের ব্যাগ’ শব্দবন্ধদুটি পৌঁছয়, এবং তৎক্ষণাৎ তিনি সটাং উঠে বসে “এই এই খবরদার আমার অফিসের ব্যাগে একদম হাত দিবি না, ইচ্ছে হলে আমার লাল ব্যাগটায় কর গে’” বলে চিক্কুর ছেড়ে আবার ধপাস করে শুয়ে পড়েন।



এবার কন্যা দেড়গজী কত কিছু বলে যায় সে আর তাঁর কানে যায় না।



“মা করি?”



“হুঁ। লাল ব্যাগে।“



অতঃপর তিনি আবার সেই রহস্যময় বিয়েবাড়ির লুক্কায়িত বিরিয়ানির সন্ধানে দলবল নিয়ে চলে যান। সেই ঘোর অ্যাডভেঞ্চারে কখনো তাঁর মুখের উপর বাদুড়ে পাখা বুলিয়ে যায়, কখনো পায়ের উপর স্পষ্ট টের পান সরীসৃপের ছোঁয়া।



আধঘন্টা পরের আপডেট –



ভদ্রমহিলা চোখ খুললেন। ঘুম যেন আঠার মত চোখে জড়িয়ে আছে। পা নাড়তেই কিসব খসখস করে উঠল। হাত তুলে চোখমুখ মুছতে গিয়ে মুখের চামড়া এক লেয়ার উঠে এল যেন হাতে।



ভয় খেয়ে উঠে আয়নার মুখোমুখি বসার পর দেখলেন মুখমণ্ডলে পুরু করে কন্যার ক্রীমের প্রলেপ, তার উপর স্কেচপেনের আঁকিবুকি, যা কিনা তাঁর হাতের তাড়নায় ধেবড়ে গেছে।



সর্বশেষ আপডেট -



ভদ্রমহিলা খাটে বাবু হয়ে বসে, ভয়ানক সব মুখভঙ্গিমা সহযোগে নিজের পায়ের ডিম থেকে সোনালী, লাল, ব্রাউন, স্বচ্ছ নানা কিসিমের সেলোটেপ চড়াং চড়াং করে টেনে খুলছেন। এখনো জানেন না, অন্য ঘরে তাঁর বাজারের লাল ব্যাগ স্কেচপেনে রামধনু রঙ হয়ে, তাঁর ওষুধের বাক্স সারা গায়ে স্টিকার চড়িয়ে এবং এক নিরীহ ঘুমন্ত দাদুমণি মাথায় গোটা চারেক রঙ্গীন ব্যাণ্ড দিয়ে বাঁধা ঝুঁটি নিয়ে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে।

Monday, 15 April 2019

নববর্ষ

নববর্ষ না আমড়া!

একে তো অফিস ছিল। শুধু অফিসই ছিল না, কাজও ছিল পাগলপারা। 

বাড়ি এসে তিতির ও তার দিম্মাকে নিয়ে ফের বেরোলুম ঘুরতে। বচ্ছরকার দিন বলে কথা! ঘুরতে ঘুরতে খেয়াল হল, ঘরে পরার চটির স্ট্র‍্যাপ পটাং হয়েছে। আহা, কী আনন্দ, এই তো নতুন কিছু কেনার উপলক্ষ্য পাওয়া গেছে! 

ডি-মার্ট থেকে যখন বেরোলাম, একহাতে দু লিটার কোল্ডড্রিঙ্ক, অন্যহাতে ঠাসা উপচে পড়া থলি, সে এত ভারী যে বেঁকে গেছি সেদিকে। 

ওদিকে আমি কিন্তু নিজের জন্য ওই  একজোড়া ঘরে পরার হাওয়াই-ই কিনেছি! বাকিসব "কোথা হইতে কী হইয়া গেল" কেস।

বাড়ি এসে দেখলুম, প্লে ডো। স্বাভাবিক। তিতির গত কয়েকদিন ধরেই এটার বায়না করছিল। তারপর আরো দুই না তিন জোড়া ধুমসো হাওয়াই চটি। কার, কেন, কিচ্ছু জানি না। একটা বদখৎ দেখতে হাতা, তার সবটাই প্রায় ফুটো। 'খামোকা দাম দিয়ে ফুটো কিনেছ কেন' বলতে যাওয়ায় যুগপৎ দিম্মা-নান্নীর কণ্ঠনির্ঘোষে যে প্রতিবাদসমুদ্র উৎপন্ন হল তার কথা  আর না বলাই ভালো।

তার প্রতিশোধও নিয়েছি অবশ্য। হাতে পেলুম একটা কাপড়ের টুকরো, সেটা ঝাড়নও হতে পারে, ঘরমোছা ন্যাতাও হতে পারে, এমনকী পাপোশ হলেও আশ্চর্য হব না। পাওয়ামাত্র সুন্দর করে মায়ের বাথরুমের রডে টাঙিয়ে দিয়ে এসেছি, কাল চেঁচামেচি করলে বলব ভেবেছিলুম তোয়ালে বুঝি। 

তারপর আরো হাজার গণ্ডা কাজ সেরে ফেললুম।

দিনের শেষে, ক্লান্ত শরীরে ধুপুস করে বিছানায় পড়ে যাবার পরেও দিন ফুরোয় না।

"মা, ও মা?"

"উঁ?"

"সারপ্রাইজ! এই নাও।"

একটা নানারঙের প্যাস্টেল কালারের দাগে ছয়লাপ পুরোনো পেন্সিল বক্স, যাকে কোনো অজ্ঞাত কারণে তিতির "কম্পাস" বলে। এবছর নতুন কম্পাস পেয়েছে নতুন ক্লাসে উঠে, তাই এটা বাতিল হয়েছিল। সেইটি হাতে ধরিয়ে দিয়ে,  মেয়ে আগ্রহে হুমড়ি খেয়ে বুকে উঠে পড়ে প্রায়।

"খোলো না? খোলো?"

খুলি।

দুটো পেন। ইয়ার ফোন। আপিশের ড্রয়ারের চাবি। ফোন খোলার কাঠি। গ্লু স্টিক। 

আপিসের ব্যাগের বাইরের খোপে পড়ে থাকে এগুলো। দরকারমত হাতড়ে বার করে নিই। 

পরিপাটি গুছিয়ে রাখা।
আর একটা পুঁচকে প্লাস্টিকের ল্যাজমোটা শেয়াল। 

"ওইটে নিয়ে খেলবে মাঝে মাঝে, হুঁ? তোমায় পয়লা বৈশাকে দিলুম, তোমার তো কম্পাস নেই একটাও..."

নববর্ষে নতুন জিনিস গিফট করার নিয়ম যে করেছিল সে কিচ্ছুই জানে না। আমার যেন বছর বছর এমন বাতিল গিফটই জোটে। 

ভালবাসার পুরোনো হয় না যে!



Saturday, 8 December 2018

খেলাঘর


তিতিরদের এখনকার বাড়িটা ভারী সুন্দর। ভিতরের ঘরে, দেওয়াল জোড়া জানলার এ পাশের কোনায় পড়ার টেবিল, ও পাশে বইয়ের আলমারি। টেবিলে থাক দেওয়া মায়ের অধুনাপাঠ্য বইয়ের ফাঁকে ‘তোড়ায় বাঁধা ঘোড়ার ডিম’, আর আলমারিতে তিতিরের নাগালের তাকে ‘মনোজদের অদ্ভুত বাড়ি’। হুঁ হুঁ বাবা, তিতির জানে!

এই দুইয়ের মাঝের খোলা অংশে, সাদা টালি বসানো মেঝেতে তিতিরের ‘খেলাঘর’। ধুমসো দেড়ফুটিয়া ট্রাক থেকে হাফ সেন্টিমিটার সাইজের পুঁতি – সব পাওয়া যায় সেখানে তিতির যখন খেলতে বসে। কোনোদিন বাক্সের উপর বাক্স চাপিয়ে পুলিশ ষ্টেশন হয়, কোনোদিন চিড়িয়াখানা। এই কনস্ট্রাকশন সাইটে মাটি কাটা গাড়ি আর সিমেন্ট মিক্সার ঘুরে বেড়াচ্ছে, তো এই মেলা বসে বেলুন বিক্রি হচ্ছে। যেহেতু ক্রীড়াঙ্গনে ওই হাফ কি এক সেন্টিমিটার সাইজের গড়গড়ে জিনিসের বিশেষ প্রাদুর্ভাব, তাই মা বকের মত ইয়াব্বড় পা ফেলে ডিঙ্গি মেরে হাঁটা চলা করে তিতির খেলতে বসলে।

যদিও তাতেও যে পুরো রেহাই পায় তা নয়।

নিজের কাজে মহাভারত পড়ছে মা। রাজশেখর বসুর মহাভারত রাখা আছে অন্য ঘরে, অন্য বইয়ের আলমারিতে। উঠে দাঁড়িয়ে পা ফেলতেই সড়াৎ করে বিনা আয়াসে তিন ফুট মত এগিয়ে গিয়ে, পরম সাবলীল শরীর ও ব্যালান্সিং ক্ষমতার পরিচয় দিয়ে খাটের কোনায় খটাং করে হাঁটু ঠুলে ফেলল।

“অ্যাঁ তুমি আমার রাস্তা ভেঙে দিলে!!!”

ত্রিভঙ্গমুরারি হয়ে দাঁড়িয়ে মা তখন পায়ের শুশ্রূষা করছে। সেই বা ছাড়বে কেন,

“তুই যে আমার হাঁটু খুলে দিলি তার বেলা?”

মেয়ের মনে মা-কে নিয়ে প্রবল মায়া, নিজেকে কিঞ্চিৎ পরিমাণে মহিলার গার্জেনও জ্ঞান করে সে। অতএব উদ্বেগের হদ্দমুদ্দ হয়ে হাঁটুতে ঠাণ্ডা জল থাবড়ে (কন্সট্রাকশন সাইটে মশলা-গাড়িতে সিমেন্ট মাখতে জল লাগে তা জানো না? কৌটো করে জল নিয়ে এসে বসতে হয় তার জন্য), বোরোলীন লেবড়ে, হামি ও ফুঁ দিয়ে তবে ছাড়ল। একটা পুরোনো শাড়ির ছেঁড়া পাড় (বার্বির শাড়ি) দিয়ে পট্টিও বেঁধে দিতে চেয়েছিল, সেটা আর মা নিতে রাজি হয়নি।

মা খাড়া হয়ে জানতে চায়, ঠিক পায়ের গোড়াতে অতগুলো জুড়ে জুড়ে বানানোর খেলার পাইপগুলো রেখেছিল কেন?

“ওঁগুলো তো জলের নল, রাস্তা সারাচ্ছি না? খুঁড়ে তুলেছি, রাস্তার ধারে অমন করেই তো সাজিয়ে রাখার নিয়ম!”

চোখ পাকিয়ে দেখা যায়, রাস্তাই বটে। কী করছিল কে জানে, আপাতত মায়ের চরণকমলের দৌলতে সারা রাস্তা জুড়ে পর পর পাইপেরা শুয়ে আছে পাশাপাশি।

“তুঁমি আমার রাস্তা ভেঙে দিয়েছ!”

“মোটেই ভাঙিনি, দ্যাখ কী সুন্দর সমান করে দিয়েছি।“

“মা! আইডিয়া! তুমি হচ্ছ রোড রোলার, কেমন?”

সবেগে রাজশেখরবাবুর খোঁজে অন্য ঘরে পলায়ন করা ছাড়া এরপর আর কী বা করার থাকে, বলুন!

---

মা ল্যাপটপে খুটখাট করছে। তিতির খেলাঘরে মত্ত। বিশাল ব্যস্ততা সেখানে, বার্বির জন্মদিন হচ্ছে।

“মাঁ? ও মা?”

“হুঁ?”

“তোমার কোন রংটা পছন্দ?”

“তিতিরের রঙ।“

“আরে ধ্যাৎ! রেড, না ইয়েলো, না পিংক...এইরকম!”

“উঁ? দে পার্পল দে।“

খচর মচর হল কিছুক্ষণ। তারপর কাঁধের পাশে খুদে মুণ্ডূ।

“আমার পাপ্পল নেই ওইগুলো। অন্য রঙ বলো।“

চোখ ফিরিয়ে দেখি বাচ্চাদের জুয়েল বানানো কিটগুলোর সমস্ত পুঁতি ঢিবি করে জড়ো করা। সেফ অপশন বলে দিই, “পিংক”।

খানিক পর খুদে খুদে প্লেটে পিংক ডোনাট, পিংক পাস্তা, পিংক কাস্টার্ড, পিংক কেক আর পিংক কাপে করে পিংক স্ট্রবেরি শেক দেওয়া হয় আমায়।

“ইকি, জলটা এমন গোলাপি করলি কি করে?”

“সিক্রেট!!!” বলে মেয়ে জলরঙের বাক্সটা ইশারায় দেখায়।

চাকুম চুকুম করে সব খেয়ে ফেলি। আহা, মিছিমিছি। কীইইইইইইই ভালো হয়েছে রে!

গর্বিতা কন্যা দুহাত ভর্তি রবারের পুতুল নিয়ে স্নানার্থে যাত্রা করেন এরপর।

মা আরো কাজ করে। হিসেব মিলছে না দেখে আবার নতুন করে শুরু থেকে শুরু করে। আরো অনেকক্ষণ খুটখাট করার পর খেয়াল হয় আন্টির দিয়ে যাওয়া চা জুড়িয়ে জল হয়ে যাচ্ছে। মা তখন পিঠ টান করে আড়মোড়া ভাঙে, চোখ বন্ধ করে একটু ব্রিদিং এক্সারসাইজ করে, তারপর আলতো করে কাপে একটা লম্বা চুমুক দেয়।

তারপর হাঁকপাক করে বাথরুমে দৌড়য়।

ইয়ে, কাপ গুলিয়ে ফেলে জলরং গোলা জল এক চুমুক খেয়ে ফেললে খুব একটা ক্ষতি হয় না, বলুন?



  

Sunday, 21 October 2018

টুম্পা'স ওয়ান্ডার কোম্পানি


ফ্লাফি, কুকি, ট্রিকি, ঋদ্ধি আর সিদ্ধি। পাঁচ বন্ধু। খুব ভাব ওদের, সদা সর্বদা একসঙ্গে থাকে। সেদিন ওরা মাঠে গেছিল খেলতে। দুম দাড়াক্কা করে খুব খেলেছে।  তারপর না সারা গায়ে 'ধুলমিট্টি' মেখেজুখে একশা। সে কি রাম নোংরা, বললে পেত্যয় যাবেন না। কিছুতেই উঠছে না গা থেকে। 



কী করা যায়! অগতির তো একটাই গতি। মা----!



মাকে, সুতরাং, 'টুম্পা' ওয়ান্ডার কার ওয়াশিং কোম্পানি' খুলতে হল। সেকি, বোঝেননি এখনো? এরা পুতুল তো নয়ই, এমনকি সফট টয়ও নয়। এরা আমাদের বাড়ির অগুনতি চারচাকা আর দুচাকার বাছাই পাঁচ। একটা ট্রেন ইঞ্জিন, একটা মাটি-খাওয়া গাড়ি, একটা মশলা-গাড়ি, মানে সিমেন্ট  মিক্সার আর কী, একটা ক্রেনগাড়ি আর একটা ঘোড়ার গাড়ি। কোনটা কে জিজ্ঞেস করে লজ্জা দেবেন না। খালি কুকি হল ঘোড়ার গাড়ি এটা মনে আছে, কারণ তার আফটার ওয়াশ সার্ভিস অন্যরকম।



নতুন কোম্পানি সেট আপ করা কি মুখের কথা! ওঠো রে, পাশে চায়ের কাপটি নিয়ে থেবড়ে বোসো রে, প্ল্যান করো রে, যন্তরপাতি সাজাও রে, তাপ্পর খদ্দেরদের লাইন করে দাঁড় করাও রে, লাইনের অর্ডার নিয়ে বিনুনি বাঁধা ক্লায়েন্টের সঙ্গে ঝগড়া করো রে, তাপ্পর ঝগড়ায় হেরে গিয়ে গোঁজ হও রে, তাপ্পর গালে মধুর মত মিষ্টি হামি খেয়ে এথিক্স টেথিক্স ভুলে ক্লায়েন্টকে চটকু করো রে, তাপ্পর সেই চটকুর ধাক্কায় ছিটকে যাওয়া ফ্লাফি, কুকি, ট্রিকি, ঋদ্ধি আর সিদ্ধিকে কুড়িয়ে আনো রে।



এইরকম মহাসমারোহে শুরু হয়ে গেল আমাদের কোম্পানির যাত্রা। খুব সিস্টেমেটিক পদ্ধতি। প্রথমে একটা রুমাল, না সরি, প্ল্যাটফর্মের উপর গাড়ি দাঁড়াচ্ছে, জেট দিয়ে, যেটা কিনা আমার একটা বাতিল কলমের মত দেখতে, স্পীডে তার গা ধুইয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারপর আরেকটা প্ল্যাটফর্মে, সেটা একটা পাজলের পিস কাঠের চৌকো, নিয়ে গিয়ে গায়ে ভালোওওওও করে ইরেজার ঘষা, আরে দ্যুৎ, সাবান মাখানো হচ্ছে। আবার আগের প্ল্যাটফর্মে এনে ধুইয়ে দেওয়া হচ্ছে৷ ধৌত গাড়ি যাচ্ছে হলুদ নরম ঝাড়নে গা মুছে নিতে, ব্যাপারটা হচ্ছে মায়ের কোলে শুয়ে। তারপর হাতে করে তুলে (ওটা রোবোটিক লিফটার মেশিন ধরে নিতে হবে) ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একটা হাতে ধরা পাখা দিয়ে শুকনো করা হচ্ছে একদম। তারও পর মোম পালিশ হচ্ছে, ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একটা ফেল্টের টুকরো দিয়ে। তারপর? গাড়িরা একটা গোলাপী কাপে স্ট্র থেকে পেট্রোল খাচ্ছে। 



শুনতে সোজা মনে হলেও মোটেই সোজা নয়। আর ক্লায়েন্টটিও মহা বায়নাকুটে। জেট চালানোর সময় মুখ দিয়ে ঠিক একরকম 'ঝোপ্ ঝোপ্ ঝপ্পাসসসস্' আওয়াজ না করলে কাঁই কাঁই করছে, পাখা সমান স্পীডে না চালালে গোঁসা হচ্ছে, গাড়ির নাকে এক্সট্রা মোমপালিশ না ঘষলে হাত পা ছুঁড়ছে। পেট্রোল  খাওয়ানো নিয়ে তো হাতাহাতিই হয়ে গেল, আমি গাড়ির পেছনবাগে স্ট্র গুঁজেছিলুম, তিতির মুখ দিয়ে খাওয়াবেই খাওয়াবে। শেষমেশ একটা রফা করে পেটে ইনপুট চ্যানেল করা হল, সেই 'কাস্তে দিয়া পেট চিরিয়া ঘাস ভরিয়া দেয়' স্টাইলে। 



কুকি অবশ্য পেট্রোল খায় না, তাকে পিঙ্ক প্লাস্টিকের ফুলকাটা প্লেটে 'দানাপানি' দিতে হল। সেই সঙ্গে আবার মোম পালিশের সাথে ফ্রী 'দলাইমলাই' যদিও সেটা ঘোড়ার প্রাপ্য কিন্তু বিচ্ছু ক্লায়েন্ট নিজেই কোলে এসে বসে নিয়ে নিল। 



এর মধ্যে 'রবাহূত', মানে দাদুমণি, এসে হাজির। তাকে গাড়িদের পরিচয় দেওয়া হল। তার পর পড়া ধরা হল, 'বলো কোনটা কে' কিন্তু রহস্যের বিষয় হল, যদিও তিতির কিচ্ছুউউউউউ জানে না, দাদুমণির হাতে পড়া বলার জন্য দেওয়া গাড়ির ফাঁকে ফাঁকে একটা প্যালেস সেট এর অন্য কী যেন খালি চলে যাচ্ছিল। ফলে পড়া বলা হচ্ছিল এইরকম -



"ফ্লাফি"

"এটা তো কমোড!"

"--- ট্রিকি"

"কমোড"

"কুকি!"

"কমোড"

"ভুলে গেছি...(মায়ের ঠোঁট নাড়া) ... ঋদ্ধি"

"কমোড

"সিদ্ধি ( বাই প্রোসেস অফ এলিমিনেশন)"

"আবার কমোড!"

এইখানে আর হাসি সামলাতে না পেরে পুরো হিজিবিজবিজের মত মাটিতে হাত পা ছুঁড়ে ক্লায়েন্টের গড়াগড়ি। হাসি চাপতে চাপতে দাদুমণির প্রস্থান।



তারপর ঝকঝকে সাজা পাঁচ গাড়ি দল বেঁধে চলল পিকনিক করতে। এত খাটনির দাম পাওয়া গেছে মোটে পাঁচখানা লুডোর ঘুঁটি, তাও আবার তার একটাও লাল নয়৷ কোম্পানি তুলে দেব ভাবছিলুম বসে বসে, জনান্তিকে খবর পাওয়া গেল পিকনিকের মাঠে নাকি বেজায় কাদা হয়েছে। রিপিট অর্ডার এল বলে



তাই এখনো দোকান খুলে বসে আছি। চাই নাকি কারো? ফাস্-কেলাস সার্ভিস করে দেওয়া হবে, চাই কি বাম্পার লাকি ড্রয়ের মাধ্যমে বেছে নেওয়া কোনো ক্রেতাকে প্রাইজ হিসেবে ওই প্লাস্টিকের কমোডটাও গিফট করা যেতে পারে।